কৃষি খাত বিশ্বের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনিয়মিত বর্ষা, খরা, বন্যা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে, এবং কৃষিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। এখানেই নবায়নযোগ্য শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে, বিশ্বব্যাপী কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে সোলার ইরিগেশন এবং বায়োগ্যাসের অবদান সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিষয় আরও প্রাসঙ্গিক। দেশের ৬০% জনসংখ্যা কৃষির উপর নির্ভরশীল, এবং কৃষিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার ১৫% মোট বিদ্যুতের। Renewable Energy Policy (Draft) 2025-এর মাধ্যমে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% বিদ্যুৎ সবুজ উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য নিয়েছে, যা কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাবে। SREDA-এর প্রকল্পে সোলার ইরিগেশন পাম্প ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ইউনিট বিতরণ করবে, যা কৃষকদের খরচ ৪০% কমাবে।
এই লেখায় আমরা কৃষিতে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রধান ব্যবহার, উদাহরণ, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব। এটি কৃষক, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য উপযোগী।
সোলার শক্তি কৃষিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নবায়নযোগ্য উৎস। ২০২৫ সালে, বিশ্বব্যাপী সোলার-চালিত ইরিগেশন পাম্প ১০ মিলিয়ন ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে, যা জল সংরক্ষণ করে ৩০% ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। বাংলাদেশে, SREDA-এর Solar Irrigation Pump (SIP) প্রোজেক্ট ২০২৫ সালে ২০,০০০ ইউনিট বিতরণ করবে, যা কৃষকদের ডিজেল পাম্পের খরচ ৫০% কমাবে। এই পাম্পগুলো ১-৫ HP ক্যাপাসিটি, যা ২-৫ একর জমিতে জল সরবরাহ করে এবং বছরে ১০,০০০ টাকা সাশ্রয় করে।
উদাহরণস্বরূপ, SoLAR প্রোজেক্ট দক্ষিণ এশিয়ায় সোলার পাম্প ব্যবহার করে কৃষিতে রেজিলিয়েন্স বাড়াচ্ছে, যা বাংলাদেশে বন্যা-প্রবণ এলাকায় প্রাসঙ্গিক। কৃষকরা সোলার প্যানেল (১ কেডব্লিউ, দাম ৫০,০০০ টাকা) ইনস্টল করে ইরিগেশন স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, এবং গভর্নমেন্ট সাবসিডি ৩০% দেয়। এটি না শুধু খরচ কমায়, বরং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিকে প্রোত্সাহিত করে।
বায়োগ্যাস কৃষিতে জৈব বর্জ্য (গোবর, ফসলের অবশিষ্টাংশ) থেকে শক্তি তৈরির একটি কার্যকর উপায়। ২০২৫ সালে, বিশ্বে ৫০ মিলিয়ন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে, যা কৃষিতে ১০% গ্যাস সরবরাহ করে। বাংলাদেশে, IDCOL-এর Biogas Program ২০২৫ সালে ২০,০০০টি প্ল্যান্ট বিতরণ করবে, যা কৃষকদের রান্নার জ্বালানি সাশ্রয় করে এবং জৈব সার উৎপাদন করে। একটি ৪-কিউবিক মিটার প্ল্যান্ট ৪-৬ পরিবারের জন্য গ্যাস সরবরাহ করে, খরচ ৫০,০০০ টাকা, এবং ২ বছরে ROI।
উদাহরণস্বরূপ, KfW-এর প্রোজেক্টে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলো কৃষি বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা নির্গমন ২০% কমায়। কৃষকরা এটি ব্যবহার করে ডিজেলের খরচ কমিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে পারেন।
উইন্ড এবং হাইড্রো শক্তি কৃষিতে কম ব্যবহৃত কিন্তু সম্ভাবনাময়। ২০২৫ সালে, বিশ্বে উইন্ড-চালিত ইরিগেশন ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অফশোর উইন্ড প্রোজেক্ট প্রথম ২০২৫ সালে লঞ্চ হবে, যা কৃষি পাম্পে ব্যবহারযোগ্য। হাইড্রো-চালিত পাম্প নদী-নির্ভর এলাকায় জল সরবরাহ করে।
উদাহরণস্বরূপ, SoLAR প্রোজেক্ট উইন্ড-সোলার হাইব্রিড সিস্টেম কৃষিতে প্রয়োগ করছে, যা ২০% খরচ কমায়।

অ্যাগ্রিভোলটাইকস সোলার প্যানেল কৃষিভূমির উপরে সেট করে শক্তি উৎপাদন এবং ফসল উৎপাদনের সমন্বয়। ২০২৫ সালে, এই প্রযুক্তি ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জল সংরক্ষণ করে ১৫% ফসল বাড়ায়। বাংলাদেশে, BUET-এর গবেষণায় অ্যাগ্রিভোলটাইকস টেস্ট চলছে, যা ২০২৫ সালে প্রথম পাইলট লঞ্চ করবে।
উদাহরণস্বরূপ, জাপানের মতো অ্যাগ্রিভোলটাইকস কৃষিতে সোলার শেডিং ব্যবহার করে ফসল রক্ষা করে, যা বাংলাদেশের গরমকালে প্রাসঙ্গিক।
কৃষিতে নবায়নযোগ্য শক্তির চ্যালেঞ্জ যেমন উচ্চ প্রাথমিক খরচ এবং অবকাঠামো অভাব। বাংলাদেশে, সোলার প্যানেলের দাম ৫০,০০০ টাকা, কিন্তু সাবসিডি ৩০% দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষতার অভাবও সমস্যা।
সমাধান: সরকারী সাবসিডি এবং এনজিও ট্রেনিং যেমন GIZ-এর প্রোজেক্ট।
২০৩০ সালের মধ্যে, বাংলাদেশে কৃষিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ৩০% হবে, যা ৪০% ফসল উৎপাদন বাড়াবে। অ্যাগ্রিভোলটাইকস এবং বায়োগ্যাসের মতো প্রযুক্তি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার লিডার করে তুলবে।
কৃষিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য একটি বিপ্লবী সম্ভাবনা, যা সোলার ইরিগেশন থেকে বায়োগ্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত। Renewable Energy Policy 2025 এবং SREDA-এর প্রকল্পগুলো এই যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা দরকার। কৃষকরা আজই শুরু করুন—একটি সোলার পাম্প ইনস্টল করে টেকসই কৃষির পথে এগিয়ে যান। আরও জানতে SREDA বা IDCOL চেক করুন।