ডিএনএ হলো জীবনের নির্দেশনা বই। এই বইয়ে লেখা আছে কীভাবে একটি কোষ থেকে পুরো জীব তৈরি হবে, কোন রোগ হবে, এমনকি আমাদের চোখের রংও।
ডিএনএ সিকোয়েন্সিং হলো সেই বইয়ের প্রতিটি অক্ষর (A, T, C, G) একে একে পড়ার কৌশল।
১৯৭৭ সালে প্রথমবার একটি ছোট ভাইরাসের জিনোম পড়া হয়েছিল। আজ আমরা মানুষের পুরো ৩ বিলিয়ন অক্ষরের জিনোম মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পড়তে পারি—এবং খরচ মাত্র ৬০০ ডলারের নিচে!
এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, ফরেনসিক, কৃষি এবং বিবর্তন গবেষণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
| প্রজন্ম | সময়কাল | নাম | খরচ (মানুষের জিনোম) | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|
| প্রথম প্রজন্ম | ১৯৭৭-২০০৫ | Sanger Sequencing | ~৩ বিলিয়ন ডলার (২০০৩) | ধীর, সঠিক, সোনার মান |
| দ্বিতীয় প্রজন্ম | ২০০৫-২০১৫ | Next-Generation (NGS) | ~১০০০ ডলার (২০১৫) | সমান্তরাল, বিশাল ডেটা, সস্তা |
| তৃতীয় প্রজন্ম | ২০১৪-বর্তমান | Nanopore / PacBio | ~২০০-৬০০ ডলার | লম্বা রিড, রিয়েল-টাইম, পোর্টেবল |
২০০৩ সালে হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট সম্পন্ন হয় ১৩ বছরে ও ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।
আজ ২০২৫ সালে একই কাজ হয় কয়েক ঘণ্টায় এবং কয়েকশ ডলারে।
রক্ত, লালা, চুল বা টিস্যু থেকে ডিএনএ বের করা হয়।
ডিএনএ ছোট ছোট টুকরো করা হয় এবং অ্যাডাপ্টার যোগ করা হয়।
কম্পিউটারে বিলিয়ন বর্ণের ডেটা একত্রিত করে পুরো জিনোম তৈরি করা হয়।
| ক্ষেত্র | উদাহরণ |
|---|---|
| ব্যক্তিগত চিকিৎসা | ক্যান্সারের টিউমারের জিনোম পড়ে সঠিক ওষুধ নির্বাচন |
| বংশ পরীক্ষা | 23andMe, AncestryDNA-এর মতো কোম্পানি |
| ফরেনসিক | অপরাধের দৃশ্যের ছোট্ট ডিএনএ থেকে অপরাধী শনাক্তকরণ |
| বিলুপ্ত প্রজাতি গবেষণা | ম্যামথ, ডাইনোসরের ডিএনএ পড়া |
| কৃষি | ধান, গমের উন্নত জাত তৈরি |
| সংক্রামক রোগ | করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তকরণ (Omicron, Delta) |
ডিএনএ সিকোয়েন্সিং শুধু একটি প্রযুক্তি নয়—এটি জীবনের কোড পড়ার চাবিকাঠি।
এই প্রযুক্তি আমাদের রোগ প্রতিরোধ, বংশ জানা, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং বিবর্তন বোঝার ক্ষমতা দিয়েছে।
আগামী দশকে এটি চিকিৎসাকে “এক আকার সবার জন্য” থেকে “আপনার জন্য তৈরি” করে দেবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি সুযোগ—যদি আমরা দ্রুত গবেষণা ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারি।জীবনের কোড এখন আমাদের হাতে। এবার সেই কোড দিয়ে আরও সুস্থ, ন্যায়সঙ্গত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পালা।
উৎস: