08 Nov
08Nov

ভূমিকা

জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, এবং ২০৫০ সালে এর প্রভাব পুরোপুরি ফুটে উঠবে। World Economic Forum (WEF)-এর Top 10 Emerging Technologies 2025 রিপোর্ট অনুসারে, প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর পরিবেশ একটি টেকসই, অভিযোজিত এবং সবুজ রূপ নেবে, যেখানে কার্বন নির্গমন ৮০% কমে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা হয় এবং শহরগুলো স্মার্ট হয়ে উঠবে। IPCC-এর ২০২৫ রিপোর্ট অনুসারে, প্রযুক্তির সাহায্যে ২০৫০ সালের মধ্যে ১.৫°C লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, কিন্তু এর জন্য বর্তমান অসমতা এবং অ্যাক্সেসের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।

বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি উচ্চ এবং কৃষি খাত অর্থনীতির মূল স্তম্ভ, প্রযুক্তির এই পরিবর্তন স্থানীয় সমস্যা যেমন বন্যা, খরা এবং দূষণ সমাধানে সাহায্য করবে। 

আমরা ২০৫০ সালের মধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশের প্রধান পরিবর্তন, উদাহরণ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব। এটি পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য উপযোগী।

নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: ২০৫০ সালে বিদ্যুতের সবুজ রূপ

২০৫০ সালে, প্রযুক্তির সাহায্যে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বিশ্বের মোট বিদ্যুতের ৮০% ছাড়িয়ে যাবে, যা WEF-এর প্রেডিকশন অনুসারে ১০০% রিনিউয়েবল-চালিত গ্রিড তৈরি করবে। সোলার এবং উইন্ডের দক্ষতা ৩০% বাড়বে, এবং অ্যাডভান্সড ব্যাটারি স্টোরেজ রিনিউয়েবলের অনিয়মিততা সমাধান করবে। বাংলাদেশে, যেখানে ২০৪১ সালের লক্ষ্য ৪০% রিনিউয়েবল, ২০৫০ সালে এটি ৭০% হবে, যা সোলার ফার্ম এবং অফশোর উইন্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভব।

উদাহরণস্বরূপ, পেরোস্কাইট সোলার সেলস ২০৫০ সালে ৪০% দক্ষতা দিয়ে বাড়ির ছাদে সহজে স্থাপনযোগ্য হবে, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ অ্যাক্সেস বাড়াবে। এই পরিবর্তন কার্বন নির্গমন ৫০ গিগাটন কমিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করবে।

কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ: অতীতের নির্গমনের সমাধান

২০৫০ সালে, ডিরেক্ট এয়ার ক্যাপচার (DAC) এবং বায়োকার্বন সিসিএস (Carbon Capture and Storage) প্রযুক্তি বাতাস থেকে CO₂ অপসারণ করে স্টোর করবে বা ফুয়েলে রূপান্তরিত করবে। IPCC-এর রিপোর্ট অনুসারে, এই টেক ২০৫০ সালে বার্ষিক ১০ গিগাটন CO₂ ক্যাপচার করতে পারে, যা ২০১০ সালের নির্গমনের সমান।

বাংলাদেশে, যেখানে শিল্প এবং কৃষি নির্গমনের উৎস, DAC প্ল্যান্ট সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করা যাবে, যা ২০৫০ সালে দেশের নির্গমন ৩০% কমাবে। এই প্রযুক্তি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করবে, যেমন ম্যাঙ্গ্রোভ ফরেস্টে CO₂ স্টোরেজ।

স্মার্ট সিটিস এবং AI-চালিত মনিটরিং: শহরের সবুজ রূপান্তর

২০৫০ সালে, AI এবং IoT-চালিত স্মার্ট সিটিস বিশ্বের ৭০% শহরকে কভার করবে, যা এনার্জি ব্যবহার ৪০% কমাবে। WEF-এর প্রেডিকশনে, AI জলবায়ু মডেলিং করে বন্যা এবং খরা পূর্বাভাস দিয়ে অভিযোজন সহজ করবে।

বাংলাদেশে, ঢাকার স্মার্ট সিটি প্রকল্প ২০৫০ সালে IoT দিয়ে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রাফিক অপটিমাইজ করে দূষণ কমাবে। এই পরিবর্তন শহরের তাপমাত্রা ২-৩°C কমিয়ে স্বাস্থ্য উন্নত করবে।

সার্কুলার ইকোনমি এবং বায়োম্যানুফ্যাকচারিং: সম্পদের চক্রাকার ব্যবহার

২০৫০ সালে, বায়োম্যানুফ্যাকচারিং ফসিল-ভিত্তিক উপকরণের পরিবর্তে বায়ো-বেসড প্রোডাক্ট তৈরি করবে, যা প্লাস্টিক দূষণ ৯০% কমাবে। WEF-এর রিপোর্ট অনুসারে, এই টেক খাদ্য উপকরণের উৎপাদন ৫০% কম খরচে করতে পারে।

বাংলাদেশে, টেক্সটাইল খাতে বায়ো-ফাইবার ব্যবহার করে দূষণ কমানো যাবে, যা ২০৫০ সালে দেশের RMG সেক্টরকে টেকসই করবে। এই পরিবর্তন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করবে।

২০৫০ সালে পৃথিবীর পরিবেশ কীভাবে বদলাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে?

জলবায়ু অভিযোজন প্রযুক্তি: ঝুঁকি মোকাবিলার অস্ত্র

২০৫০ সালে, জিওইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ক্রপস প্রযুক্তি খরা এবং বন্যার মতো ঝুঁকি মোকাবিলা করবে। IPCC-এর রিপোর্ট অনুসারে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফসলের উৎপাদন ৩০% বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশে, IRRI-এর সাথে যুক্ত গবেষণা ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ধান তৈরি করছে, যা ২০৫০ সালে বন্যা-সহনশীল ফসল নিশ্চিত করবে। এই প্রযুক্তি জীবন রক্ষায় সাহায্য করবে।

চ্যালেঞ্জসমূহ: প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং সমাধান

প্রযুক্তির পরিবর্তন সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, অ্যাক্সেসের অসমতা: উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তির অ্যাক্সেস কম, যা ২০৫০ সালে ৩০% জনসংখ্যাকে বাদ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডেটা প্রাইভেসি এবং সাইবার রিস্ক। তৃতীয়ত, খরচ এবং অবকাঠামো অভাব।

সমাধান: আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেমন COP30-এর NCQG ফান্ডিং এবং লোকাল অভিযোজন। বাংলাদেশে, SREDA-এর মতো সংস্থা প্রযুক্তির অ্যাক্সেস বাড়াবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: স্থানীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে, ২০৫০ সালে প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশের পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে বন্যা এবং খরা বাড়ছে, স্মার্ট গ্রিড এবং AI মনিটরিং এই ঝুঁকি কমাবে। রিনিউয়েবল এনার্জির লক্ষ্য ৪০% হলে দেশের নির্গমন ৩০% কমবে। বায়োম্যানুফ্যাকচারিং টেক্সটাইল খাতকে টেকসই করবে।

উপসংহার

২০৫০ সালে প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর পরিবেশ একটি সবুজ, অভিযোজিত রূপ নেবে, যা WEF এবং IPCC-এর প্রেডিকশন অনুসারে নেট-জিরো অর্জন নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে এই পরিবর্তন স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা দরকার। আরও জানতে WEF বা IPCC চেক করুন।

মন্তব্যসমূহ
* ইমেইলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে না।