31 Oct
31Oct

ভূমিকা

বাংলাদেশে গ্রিন টেক স্টার্টআপের সেক্টর একটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত, Tracxn-এর তথ্য অনুসারে, দেশে ১০২টি সাসটেইনেবিলিটি টেক স্টার্টআপ রয়েছে, যার মধ্যে ৭টি ফান্ডিং পেয়েছে। এই স্টার্টআপগুলো ক্লাইমেট চেঞ্জ, ক্লিন এনার্জি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো ক্ষেত্রে কাজ করছে, যা দেশের ২০৩০ সালের ২০% নবায়নযোগ্য শক্তি লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করছে। Financial Express-এর রিপোর্ট অনুসারে, গ্রিন টেক অ্যাডপশন নেট-জিরো অর্জনের জন্য জরুরি, যা স্টার্টআপগুলোকে ত্বরান্বিত করছে।

LightCastle Partners-এর ২০২৫ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন বৃদ্ধি, এনার্জি সিকিউরিটি এবং সাসটেইনেবিলিটির ভারসাম্য রক্ষা করছে। The Postman-এর জুলাই ২০২৫ প্রতিবেদনে GreenTech Solutions-এর মতো স্টার্টআপ ১২ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে, যা এই সেক্টরের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। 

এই লেখায় আমরা বর্তমান অবস্থা, কী প্লেয়ার, ফান্ডিং, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করব। এটি উদ্যোক্তা, ইনভেস্টর এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য উপযোগী।

সেক্টরের ওভারভিউ: সংখ্যা এবং ট্রেন্ডস

বাংলাদেশে গ্রিন টেক স্টার্টআপের সংখ্যা ২০২৫ সালে ১০২টি পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০% বৃদ্ধি। Ensun-এর তালিকায় ৬০টিরও বেশি ক্লাইমেট টেক কোম্পানি রয়েছে, যেমন FarTech Ltd. এবং Tritech Building Services Ltd., যা ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন এবং গ্রিন বিল্ডিংয়ে কাজ করছে। F6S-এর তালিকায় ১৯টি টপ এনার্জি কোম্পানি রয়েছে, যেমন Tiger New Energy (ক্লিন এনার্জি ইকোসিস্টেম) এবং SOLshare Ltd. (সোলার শেয়ারিং)।

ফান্ডিং ট্রেন্ডস উত্সাহজনক: ২০২৫ সালের প্রথম অক্টোবর পর্যন্ত, ক্লাইমেট স্টার্টআপগুলো ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফান্ডিং পেয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৫% বৃদ্ধি। UNDP-FBCCI-IRC-এর ৭ অক্টোবর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত চুক্তি ক্রস-বর্ডার ইনভেস্টমেন্ট এবং সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সে ইনোভেশন ফোস্টার করছে। WEF-এর জুলাই ২০২৫ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স আনলকিং এই ট্রানজিশনের চাবি, যা বাংলাদেশের গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশনকে বুস্ট করবে।

সেক্টরের ফোকাস ক্লিন এনার্জি (সোলার, উইন্ড), সাসটেইনেবল অ্যাগ্রি এবং ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে। Apparel Resources-এর রিপোর্টে RMG সেক্টর ২০২৫ সালে ৩৬টি গ্রিন সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে, যা গ্রিন টেক স্টার্টআপগুলোকে সাপোর্ট করছে।

কী প্লেয়ার স্টার্টআপসমূহ: সেক্টরের নেতৃত্ব

বাংলাদেশের গ্রিন টেক স্টার্টআপের মধ্যে কয়েকটি স্ট্যান্ড আউট করছে। SOLshare Ltd. সোলার এনার্জি শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, যা অফ-গ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে এবং ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ইউজার যোগ করেছে। iFarmer অ্যাগ্রি-টেক প্ল্যাটফর্ম, যা সাসটেইনেবল ফার্মিং প্রমোট করে এবং ২০২৫ সালে ৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে।

Tiger New Energy ক্লিন এনার্জি ইকোসিস্টেম তৈরি করছে, যা ইমার্জিং মার্কেটে ফোকাস করে। Dovashi সাসটেইনেবল ফুড ডেলিভারি, Edvive এডু-টেক সাসটেইনেবিলিটি শিক্ষা, এবং FarTech Ltd. ক্লাইমেট টেক সল্যুশন প্রদান করছে। Tritech Building Services Ltd. গ্রিন বিল্ডিং সল্যুশন দিচ্ছে। এই স্টার্টআপগুলো স্থানীয় সমস্যা যেমন বন্যা-প্রবণতা এবং এনার্জি ডেফিসিট সমাধান করছে।

বাংলাদেশে গ্রিন টেক স্টার্টআপের বর্তমান অবস্থা

ফান্ডিং এবং সাপোর্ট: বৃদ্ধির চালিকাশক্তি

২০২৫ সালে গ্রিন টেক স্টার্টআপে ফান্ডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। The Postman-এর রিপোর্টে GreenTech Solutions ১২ মিলিয়ন ডলার ভেঞ্চার ফান্ডিং পেয়েছে। UNDP-FBCCI-IRC-এর চুক্তি সার্কুলার ইকোনমিতে গ্রিন স্টার্টআপকে এমপাওয়ার করছে। WEF-এর প্রতিবেদনে ফাইন্যান্স আনলকিং এই সেক্টরের জন্য অপরিহার্য বলা হয়েছে।

সরকারী সাপোর্ট যেমন Startup Bangladesh-এর ফান্ডিং এবং IDCOL-এর লোন স্টার্টআপগুলোকে বুস্ট করছে। BSREA-এর Renewable Energy Forum 2025 ইনোভেশন এবং নেটওয়ার্কিং প্রদান করছে। আন্তর্জাতিকভাবে, World Bank এবং ADB-এর প্রোজেক্ট স্টার্টআপগুলোকে সাপোর্ট করছে।

চ্যালেঞ্জসমূহ: বাধা এবং সমাধান

সেক্টরের বৃদ্ধি সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অবকাঠামো অভাব এবং ফান্ডিং গ্যাপ যেমন, যা LightCastle-এর রিপোর্টে উল্লেখিত। রেগুলেটরি জটিলতা এবং স্কিল গ্যাপও বাধা। সমাধান: সরকারী-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং এনজিও ট্রেনিং যেমন GIZ-এর Skills4SE। Apparel Resources-এর রিপোর্টে RMG-এর গ্রিন সার্টিফিকেশন যেমন উদাহরণ দেখায় যে, সেক্টর অভিযোজিত হচ্ছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ২০৩০ এবং তার পর

২০৩০ সালের মধ্যে, গ্রিন টেক স্টার্টআপের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে, এবং ফান্ডিং ৫০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। WEF-এর প্রতিবেদনে ফাইন্যান্স আনলকিং এই ট্রানজিশনকে ত্বরান্বিত করবে। বাংলাদেশে, RMG-এর গ্রিন সার্টিফিকেশন যেমন ৩৬টি ২০২৫ সালে অর্জিত হয়েছে, যা স্টার্টআপগুলোকে বুস্ট করবে। UNDP-এর চুক্তি সার্কুলার ইকোনমিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

উপসংহার

বাংলাদেশে গ্রিন টেক স্টার্টআপের বর্তমান অবস্থা উজ্জ্বল, যা ১০২টি স্টার্টআপ, ফান্ডিং বৃদ্ধি এবং সরকারী-এনজিও সহায়তায় সমৃদ্ধ। SOLshare এবং iFarmer-এর মতো কোম্পানি লিড করছে, কিন্তু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সহযোগিতা দরকার। ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে এই সেক্টর অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা এই সুযোগ গ্রহণ করে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ুন। আরও তথ্যের জন্য Tracxn বা BSREA চেক করুন।

মন্তব্যসমূহ
* ইমেইলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে না।