27 Oct
27Oct

জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে গ্রিন টেক স্টার্টআপগুলো বিশ্বকে টেকসই করে তুলছে, এবং এই বিপ্লবে নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে, ফিমেল-ফাউন্ডেড ক্লাইমেট টেক স্টার্টআপগুলোর ফান্ডিং ৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এখনও মোট ফান্ডিংয়ের ১০%-এরও কম পায়। ইউরোপীয় কমিশনের Women TechEU-এর ৪র্থ কল-এ ৪০টি নারী-নেতৃত্বাধীন ডিপ টেক স্টার্টআপকে সিলেক্ট করা হয়েছে, যা গ্রিন, ডিজিটাল এবং সোশ্যাল ট্রানজিশনকে সাপোর্ট করে। দক্ষিণ এশিয়ায়, IFC এবং NEX-এর প্রোগ্রামে ২৬টি নারী-নেতৃত্বাধীন ক্লাইমেট স্টার্টআপ সিলেক্ট হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশী উদ্যোক্তারাও রয়েছে।

নারীরা গ্রিন টেকে শুধু উদ্ভাবন করছেন না, বরং বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যা সমাধান করছেন। Storm4-এর Top 100 Women in CleanTech 2025 লিস্টে Alexandra Rasch Castillo (Caban) এবং Inna Braverman (Eco Wave Power)-এর মতো নেতৃস্থানীয় নারীদের উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে, যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ২৫% এরও কম, এই সেক্টরে সুযোগ বিশাল। 

এই লেখায় আমরা নারীদের ভূমিকা, সফল উদাহরণ, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ নিয়ে আলোচনা করব। এটি নারী উদ্যোক্তা, স্টুডেন্ট এবং সাপোর্টারদের জন্য উপযোগী।

নারী উদ্যোক্তাদের গ্রিন টেকে ভূমিকা: একটি বিপ্লবী পরিবর্তন

নারী উদ্যোক্তারা গ্রিন টেকে বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছেন, যা সমস্যা সমাধানকে আরও কার্যকর করে। Women in Tech-এর রিপোর্ট অনুসারে, নারী-নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপগুলো ২৫% বেশি সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট তৈরি করে। ২০২৫ সালে, UAE-এর ৪৫% গ্রিন টেক স্টার্টআপ নারী-নেতৃত্বাধীন, যা ইক্যুয়ালিটি ড্রাইভ করে ইনোভেশন বাড়ায়। দিল্লির Startup Policy 2025-এ নারী এবং মার্জিনালাইজড উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে, যা AI, গ্রিন টেক এবং হাইড্রোজেন এনার্জিতে ফোকাস করে।

ইন্ডিয়ায়, নারীরা গ্রিন স্টার্টআপে লিড করছেন, যেমন সোলার প্যানেল ট্রেনিং এবং ক্লিন এনার্জি প্রোগ্রাম। কেনিয়ায়, নারীরা ক্লাইমেট চেঞ্জ এবং AI-এ লিড করছেন, যা সায়েন্স ল্যাব থেকে টেক স্টার্টআপ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই লিডারশিপ না শুধু ইকোনমিক, বরং পরিবেশগত স্টুয়ার্ডশিপ বাড়ায়।

সফল উদাহরণসমূহ: নারী-নেতৃত্বাধীন গ্রিন টেক স্টার্টআপ

২০২৫ সালে, নারীদের সফলতা অনুপ্রেরণাদায়ক। Fairatmos-এর রিপোর্টে ৮টি নারী-লেড ক্লাইমেট টেক কোম্পানি উল্লেখ করা হয়েছে: WATS (জল বিশুদ্ধকরণ), Mukur Clean Stove (ক্লিন কুকিং), Itselectric (ইভি চার্জিং), Mirova (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট), Circulor (সাপ্লাই চেইন ট্র্যাকিং), RediGo Carbon (কার্বন অফসেট), Fairatmos (কার্বন ম্যানেজমেন্ট) এবং একটি অজানা। এগুলো জলবায়ু সমস্যা সমাধান করে বিশ্বব্যাপী ইমপ্যাক্ট তৈরি করছে।

Revathi Advaithi (Flex-এর CEO) গ্রিন বিজনেস প্র্যাকটিস চালু করে সাপ্লাই চেইনকে টেকসই করেছেন। Inna Braverman (Eco Wave Power) ওয়েভ এনার্জি ক্যাপচার করে ক্লিন এনার্জি উৎপাদন করছেন। Alexandra Rasch Castillo (Caban) ক্লিনটেকে লিড করছেন, যা সাসটেইনেবল সল্যুশন প্রমোট করে।

দক্ষিণ এশিয়ায়, IFC-এর প্রোগ্রামে ২৬টি নারী-লেড স্টার্টআপ সিলেক্ট হয়েছে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা রয়েছে। বাংলাদেশে, Shoktikonna 2025 Leadership Cohort মহিলাদের গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশনে এমপাওয়ার করছে। ইন্ডিয়ায়, নারীরা AI এবং গ্রিন স্টার্টআপে লিড করছেন, যা টেক-ফর-ইকো রেভোল্যুশন ড্রাইভ করছে।Hacksummit-এর রিপোর্টে ৪৫ জন PhD-ধারী নারী ক্লাইমেট স্টার্টআপে লিড করছেন, যা রিসার্চকে ব্যবসায়ে রূপান্তরিত করছে। এই উদাহরণগুলো দেখায় যে, নারীরা গ্রিন টেকে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, নেতা।

নারী উদ্যোক্তা ও গ্রিন টেক স্টার্টআপ

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সুযোগ: স্থানীয় প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ২৫% এরও কম, কিন্তু গ্রিন টেকে সুযোগ বিশাল। UNOPS এবং UNRCO-এর Youth Powering Bangladesh's Green Future প্রোগ্রাম ২০২৫-এ নারীদের রিনিউয়েবল এনার্জি এডুকেশন এবং স্টার্টআপ সাপোর্ট প্রদান করছে। দক্ষিণ এশিয়ায়, IFC-এর ২৬টি সিলেকশনের মধ্যে বাংলাদেশী নারীরা ক্লাইমেট অ্যাকশনে লিড করছেন, যেমন সোলার এবং ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্টার্টআপ।ইন্ডিয়ায়, নারীরা গ্রিন স্টার্টআপে ট্রান্সফর্মিং লাইভস, যা National Technology Day-এ উদযাপিত। কেনিয়ায়, NGAAF-এর প্রোগ্রাম নারীদের ক্লাইমেট এবং টেকে লিডারশিপ দিচ্ছে। এই সুযোগগুলো দেখায় যে, দক্ষিণ এশিয়ায় নারী উদ্যোক্তারা গ্রিন টেককে লোকালাইজ করতে পারেন।

চ্যালেঞ্জসমূহ: বাধা অতিক্রমের পথ

নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ যেমন ফান্ডিং অভাব (মাত্র ১০% পায়) এবং জেন্ডার বায়াস। Women Tech-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, নারীরা ট্র্যাডিশনাল বাধা অতিক্রম করে স্টার্টআপ এবং রিসার্চ লিড করছেন। UAE-এর ৪৫% স্ট্যাটিস্টিকস দেখায় যে, ইক্যুয়ালিটি ইনোভেশন বাড়ায়, কিন্তু এখনও গ্যাপ রয়েছে।বাংলাদেশে, সামাজিক বাধা এবং অ্যাক্সেস অভাব চ্যালেঞ্জ, কিন্তু Shoktikonna-এর মতো প্রোগ্রাম মেন্টরশিপ দিয়ে সাহায্য করছে। সমাধান: নেটওয়ার্কিং এবং গ্রিন গ্রান্টস যেমন WE-RISE-এর ওপেন কল (১২ মার্চ থেকে ১৪ মে ২০২৫) অ্যাপ্লাই করুন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: নারীদের নেতৃত্বে সবুজ ভবিষ্যৎ

২০৩০ সালের মধ্যে, নারী-লেড গ্রিন টেক স্টার্টআপগুলো ফান্ডিংয়ের ২৫% পাবে, যা ইক্যুয়ালিটি নিশ্চিত করবে। Women in Cleantech Sustainability-এর ২০২৫ পিচ কম্পিটিশন নারীদের গ্লোবাল স্টেজে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশে, Youth Powering Green Future-এর মতো প্রোগ্রাম নারীদের ইমপাওয়ার করবে।ইউএ-এর মতো সাকসেস স্টোরি দেখায় যে, নারী লিডারশিপ ইনোভেশন ড্রাইভ করে। এই ভবিষ্যতে, নারীরা গ্রিন টেককে আরও ইনক্লুসিভ করবেন।

উপসংহার

নারী উদ্যোক্তা গ্রিন টেক স্টার্টআপে সবুজ বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা ফান্ডিং বৃদ্ধি এবং ইমপ্যাক্ট দেখাচ্ছে। WATS থেকে Eco Wave Power পর্যন্ত উদাহরণ এবং Women TechEU-এর মতো প্রোগ্রাম অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। বাংলাদেশে স্থানীয় সুযোগ গ্রহণ করে নারীরা এই খাতকে রূপান্তরিত করতে পারেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং মেন্টরশিপ দরকার। নারীরা এগিয়ে আসুন—একটি আইডিয়া নিয়ে স্টার্টআপ শুরু করুন এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ুন। আরও জানতে Women TechEU বা Shoktikonna চেক করুন।

মন্তব্যসমূহ
* ইমেইলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে না।