31 Oct
31Oct

ভূমিকা

নবায়নযোগ্য শক্তির সেক্টর বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য একটি অপরিহার্য অংশ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালে, সরকারী নীতি এবং এনজিও-এর সহায়তা মিলে এই সেক্টরে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। Renewable Energy Policy (Draft) 2025-এর মাধ্যমে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% বিদ্যুৎ সবুজ উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য নিয়েছে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০% হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ২০২৫-২০৪০ সালের মধ্যে ৩৫.২ থেকে ৪২.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, যা বেসরকারী খাত, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল।

এনজিও-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেমন BSREA (Bangladesh Sustainable and Renewable Energy Association) এবং UNDP-এর মতো সংস্থাগুলো ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহায্য করছে। 

এই লেখায় আমরা সরকারী এবং এনজিও সহায়তার বিস্তারিত, উদাহরণ, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব। এটি উদ্যোক্তা, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য উপযোগী।

সরকারী সহায়তা: নীতি এবং প্রকল্পের ভিত্তি

বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সক্রিয়। Renewable Energy Policy (Draft) 2025-এর মূল লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির অভিযোজন এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রচার করে সাশ্রয়ী এনার্জি নিশ্চিত করা। এই নীতি অনুসারে, বেসরকারী বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারবেন এবং ক্রেতা নির্বাচন করতে পারবেন। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% লক্ষ্য মেটাতে সাহায্য করবে, যা বর্তমান ১.৫% থেকে বিশাল লাফ।

Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA) এই সেক্টরের মূল প্রচারক। SREDA-এর মাধ্যমে সোলার হোম সিস্টেম (SHS) প্রোজেক্ট ৬ লক্ষেরও বেশি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, এবং ২০২৫ সালে এটি আরও ১ লক্ষ ঘরে প্রসারিত হবে। Infrastructure Development Company Limited (IDCOL) SREDA-এর সাথে যুক্ত হয়ে ফান্ডিং প্রদান করে, যা ২০২৫ সালে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের লোন অ্যাপ্রুভ করেছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা যেমন World Bank-এর ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রোজেক্ট ঢাকায় ওয়েস্ট-টু-এনার্জি উন্নয়ন করছে, যা নবায়নযোগ্য সেক্টরকে বুস্ট করবে। ADB-এর ৫০ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং সোলার-স্টোরেজ প্রোজেক্টে যাবে, যা ১০০ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি যোগ করবে। এই সহায়তা বেসরকারী খাতকে উৎসাহিত করে, যেমন ২০২৫ সালে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ৯৮০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য।

সরকারী নীতির মাধ্যমে ট্যাক্স ছাড় এবং ল্যান্ড অ্যালোকেশন যেমন উপকূলীয় অফশোর উইন্ড প্রোজেক্টে সহায়তা দিচ্ছে, যা ২০২৫ সালে প্রথম পাইলট লঞ্চ করবে। এই সকল উদ্যোগ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিন এনার্জি লিডার করে তুলবে।

এনজিও সহায়তা: সম্প্রদায়-ভিত্তিক উন্নয়নের অংশীদার

এনজিও-রা সরকারের সাথে মিলে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। Bangladesh Sustainable and Renewable Energy Association (BSREA) সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করে সাসটেইনেবল এনার্জি সল্যুশন প্রমোট করে। ২০২৫ সালে BSREA-এর Renewable Energy Forum (REF 2025) ডায়ালগ, ইনোভেশন এবং গ্রিন ক্যারিয়ার পাথ তৈরি করছে, যা ট্রেনিং এবং এডুকেশনের ফাঁক পূরণ করছে।

UNDP-এর Development of Sustainable Renewable Energy Power Generation প্রোজেক্ট SREDA-এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রোজেক্ট ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ঘরে সোলার সিস্টেম ইনস্টল করার লক্ষ্য নিয়েছে। GIZ-এর Skills4SE প্রোজেক্ট TVET (Technical and Vocational Education and Training) উন্নত করে এনার্জি সেক্টরে স্কিলস অ্যালাইন করছে, যা ২০২৫ সালে ৫০০০ যুবককে ট্রেনিং দেবে।

অন্যান্য এনজিও যেমন BRAC এবং Grameen Shakti সোলার হোম লাইটিং প্রোজেক্ট চালিয়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষকে সাহায্য করেছে। World Vision এবং USAID-এর Feed the Future প্রোজেক্ট ক্লাইমেট-স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচারে ফোকাস করে, যা নবায়নযোগ্য শক্তির সাথে যুক্ত। ২০২৫ সালে Bangladesh Clean Energy Week-এ Women in Energy (WENERGY) ক্যাম্পেইন নারীদের সাসটেইনেবল এনার্জিতে অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে। 

এনজিও-রা সম্প্রদায়-ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে গ্রামীণ এলাকায় সোলার এবং বায়োগ্যাস প্রকল্প চালায়, যা সরকারী নীতির সাথে মিলে কার্যকর হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Scaling Up Renewable Energy Program (SREP) নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর জন্য ক্লিন টেক প্রমোট করে, যা বাংলাদেশে ২০২৫ সালে নতুন ফান্ডিং আনবে।

নবায়নযোগ্য শক্তিতে সরকারী ও এনজিও সহায়তা

উদাহরণসমূহ: সফল প্রকল্প এবং সহযোগিতা

সরকারী এবং এনজিও সহায়তার সফল উদাহরণ যেমন IDCOL-এর সোলার হোম সিস্টেম প্রোজেক্ট, যা BSREA এবং UNDP-এর সাথে যুক্ত হয়ে ৬ লক্ষ ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালে এটি ১ লক্ষ নতুন ঘরে প্রসারিত হবে, যা বার্ষিক ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সাশ্রয় করতে পারে।

আরেক উদাহরণ Green Climate Fund-এর প্রোজেক্ট, যা SREDA-এর সাথে মিলে উপকূলীয় এলাকায় সোলার মাইক্রো-গ্রিড তৈরি করছে। এটি ২০২৫ সালে ৫০,০০০ মানুষকে উপকৃত করবে। এনজিও যেমন First View Group-এর Bangladesh Clean Energy Week 2025 ইভেন্ট ইনোভেশন এবং নেটওয়ার্কিং প্রমোট করে, যা নতুন প্রকল্পের জন্ম দিচ্ছে।

এই সহযোগিতা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিন এনার্জি হাব করে তুলছে। 

উদাহরণস্বরূপ, IEEFA-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেসরকারী বিনিয়োগ এবং এনজিও সহায়তা ২০৩০ সালের লক্ষ্য মেটাতে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বার্ষিক প্রয়োজন।

চ্যালেঞ্জসমূহ: সহায়তার পথে বাধা

যদিও অগ্রগতি হয়েছে, চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারী সহায়তায় বাস্তবায়ন দেরি যেমন Transitional Government-এর নতুন লক্ষ্য সত্ত্বেও গ্রাউন্ড লেভেলে অ্যাকশন কম। বিনিয়োগের জন্য ৩৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে অপর্যাপ্ত। এনজিও-রা ফান্ডিং এবং ক্যাপাসিটি গ্যাপের সম্মুখীন, যেমন কোস্টাল এলাকায় সোলার অ্যাক্সেসের জন্য গ্রান্ট প্রপোজাল।

অন্য চ্যালেঞ্জ যেমন রেগুলেটরি জটিলতা এবং অবকাঠামো অভাব। সমাধান: সরকারী-এনজিও পার্টনারশিপ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ফান্ডিং যেমন EIB-এর Technical Assistance for Bangladesh Renewable Energy Facility।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ২০৩০ এবং তার পর

২০৩০ সালের মধ্যে, সরকারী নীতি এবং এনজিও সহায়তা মিলে বাংলাদেশ ২০% লক্ষ্য মেটাতে পারবে, যা ২০৪০ সালে ৩০% হবে। আন্তর্জাতিক সহায়তা যেমন World Bank-এর ফান্ডিং এবং এনজিও-এর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এই যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। বাংলাদেশের Green Energy Transition রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫-২০৩০ সালে ২১.৮৫% নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সহায়তায় সম্ভব।

২০৩০ সালের পর, অফশোর উইন্ড এবং সোলার ফার্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিন এনার্জি হাব হয়ে উঠবে। এনজিও-এর মতো Green Lead-এর REF 2025 এমন ইভেন্ট নতুন সহযোগিতা তৈরি করবে।

উপসংহার

নবায়নযোগ্য শক্তিতে সরকারী এবং এনজিও সহায়তা বাংলাদেশকে টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। Renewable Energy Policy 2025, SREDA-এর প্রকল্প এবং BSREA-UNDP-এর সহযোগিতা যেমন উদাহরণ দেখায় যে, এই সহায়তা লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা দরকার। আমরা সকলে এই যাত্রায় অংশ নিয়ে সবুজ এনার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারি। আরও তথ্যের জন্য SREDA বা BSREA-এর ওয়েবসাইট চেক করুন।

মন্তব্যসমূহ
* ইমেইলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে না।